মেয়েদের চুলের স্টাইল: মুখের শেপ অনুযায়ী সেরা ২০টি পারফেক্ট হেয়ারস্টাইল গাইড

মেয়েদের চুলের স্টাইল: ২০টা লুক, কোনটা তোমার মুখ আর দিনের জন্য মানাবে

Table of Contents

চুলের স্টাইল বাছাই করা মানে শুধু সুন্দর কিছু একটা বেছে নেওয়া না, তোমার মুখের গঠন, অনুষ্ঠান, এবং চুলের ধরন তিনটাই মিলিয়ে দেখতে হয়। এই গাইডে ২০টা চুলের স্টাইল আছে, ট্র্যাডিশনাল খোঁপা থেকে শুরু করে লেয়ারড বব (layered bob) আর পিক্সি (pixie) পর্যন্ত। প্রতিটার সাথে আছে কোন ফেস শেপ এ মানাবে, কোন অনুষ্ঠান এ পরবে, এবং একটা ছোট পরামর্শ আমাদের পক্ষ থেকে।

২০টা মেয়েদের চুলের স্টাইল, একটা একটা করে

দ্রুত ঠিক করতে চাইলে অনুষ্ঠান অনুযায়ী বাছো। অফিসের জন্য চুলের স্টাইল খুঁজলে ক্লাসিক খোঁপা বা লো বান বেঁধে নাও। বিয়ের অতিথি হিসেবে চুল বাঁধতে চাইলে ক্রাউন বেণী বা হাফ-আপ হাফ-ডাউন বেছে নাও।

চুল কাটতে চাইলে লং বব (লব) দিয়ে শুরু করো। লব রাখলে পরে আরো ছোট করতে সুবিধা পাবে। প্রতিটা স্টাইল নিচে আলাদা করে সাজিয়ে দিচ্ছি।

১. ক্লাসিক খোঁপা (Classic Bengali Bun)

ক্লাসিক খোঁপা (Classic Bengali Bun)

মুখের আকার: ওভাল, গোল, লম্বাটে • উপলক্ষ: অফিস, দুর্গাপূজা, বিয়ে, পহেলা বৈশাখ

ক্লাসিক খোঁপা কখনো পুরোনো হয় না। রোজকার অফিস হোক বা বিয়ের কনের সাজ, সবখানেই দিব্যি মানিয়ে যায়। সব চুল পেছনে এনে নিচু করে গোল খোঁপা বাঁধো, ববি পিন দিয়ে ভালো করে আটকে নাও। চারপাশে মোগরা ফুলের গজরা জড়িয়ে দিলেই সাজ সম্পূর্ণ।

মাঝারি থেকে লম্বা, ঘন চুলে এই খোঁপা সবচেয়ে ভরাট দেখায়। ঢাকার গরমে লম্বা চুল ঘাড়ে না রেখে খোঁপা করে নিলে সারাদিন ঝরঝরে থাকবে। তৈরি হতে লাগে মাত্র ৫-১০ মিনিট।

আমাদের একটা টিপ: খোঁপা একটু ফোলা রাখতে বেণীর দুই পাশ থেকে হালকা টেনে নাও। তবে খুব টাইট বেঁধো না, মাথা ধরে যেতে পারে। আর ভেজা চুলে খোঁপা কখনো বেঁধো না।

২. একপাশের বেণী (Side-Parted Single Plait)

একপাশের বেণী (Side-Parted Single Plait)

মুখের আকার: ওভাল, লম্বাটে, গোল • উপলক্ষ: অফিস, কলেজ, পহেলা বৈশাখ, ক্যাজুয়াল

শাড়ি, কামিজ, কুর্তি, এমনকি টি-শার্ট, একপাশের বেণী সব পোশাকেই খাপ খেয়ে যায়। মাঝখানে বা একপাশে সিঁথি করো, সব চুল এক কাঁধের উপর এনে সাধারণ তিন গোছার বেণী গেঁথে নাও। শেষে রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে দাও, ব্যস।

একদম টানটান না রেখে একটু ঢিলেঢালা রাখলে বেণী বেশি সুন্দর লাগে। গিঁটের কাছে আঙুল দিয়ে কয়েক গোছা চুল আলগা করে দাও, তখন বেণীটা দেখতে আরও নরম লাগে। মাত্র ৩-৫ মিনিটেই হয়ে যায়। পহেলা বৈশাখে বেণীর শেষে একটা লাল ফিতা বেঁধে দিলে বৈশাখী সাজটা জমে ওঠে।

আমাদের একটা টিপ: ভেজা চুলে বা জট থাকা চুলে বেণী বেঁধো না, সুন্দর হবে না। আর খুব শক্ত করে বেঁধো না, মাথা ধরে যেতে পারে।

৩. ফিশটেইল বেণী (Fishtail Braid)

ফিশটেইল বেণী (Fishtail Braid)

মুখের আকার: ওভাল, স্কয়ার, হার্ট • উপলক্ষ: পার্টি, বিয়ে, ফটোশুট, ক্যাজুয়াল

গেঁথে ফেললে ফিশটেইল বেণী দেখতে ঠিক মাছের লেজের মতো, নামটাও এসেছে সেখান থেকেই। দেখতে জটিল মনে হয়, অথচ কাজটা একটাই, শুধু বারবার করে যেতে হয়। সাধারণ বেণীর মতো তিন ভাগ নয়, এখানে চুল দুই ভাগ করো। এক ভাগের বাইরের কিনারা থেকে সরু এক গোছা তুলে অন্য ভাগে মিশিয়ে দাও, তারপর উল্টো দিক থেকে একই কাজ। এভাবে এগোলেই নিচের দিকে মাছের লেজের নকশা ফুটে উঠতে থাকে।

ঘন চুলে এই বেণী সবচেয়ে ভরাট দেখায়। তবে চুল খুব পাতলা হলে ফিশটেইল ভালো ধরে না, খুলে আসে। তিন ভাগের বেণীতে আমরা অভ্যস্ত বলে দুই ভাগের এই কায়দা প্রথমবার একটু কঠিন লাগে, কয়েকবার করলেই হাতে এসে যায়।

আমাদের একটা টিপ: প্রথম কয়েকবার আয়নার সামনে বসে করো। চুলের গোঁড়ায় একটা রাবার ব্যান্ড বেঁধে নিলে এলোমেলো চুল সামলাতেও সুবিধা হয়।

৪. দুই বেণী (Double Plaits / Twin Braids)

দুই বেণী (টুইন প্লেইট) (Double Plaits / Twin Braids)

মুখের আকার: লম্বাটে, ওভাল, হার্ট • উপলক্ষ: স্কুল, কলেজ, পূজা, ট্র্যাডিশনাল অনুষ্ঠান

দুই বেণী একসময় ছিল স্কুল-ইউনিফর্মের চেনা সাজ। সেই স্টাইলটাই এখন নস্টালজিয়া ফ্যাশন হয়ে আবার ফিরে এসেছে। মাঝ বরাবর সিঁথি করো, দু পাশে দুটো বেণী গেঁথে নাও। কোটি, ফতুয়া, এমনকি সাদা কুর্তির সাথেও দারুণ মানায়। কলেজ ফাংশনে শাড়ি পরেও একটু অন্যরকম দেখাতে চাইলে, অল্প আয়োজনেই জোড়া বেণী নতুন একটা সাজ এনে দেয়।

আমাদের একটা টিপ: বেণী দুটোর শেষ মুড়িয়ে কানের পাশে পিন করে দাও। সাথে সাথেই একটা মিল্কমেড বেণীর ভাব আসে, ছবিতে যেটা দারুণ ফোটে।

৫. ক্রাউন বেণী (Crown Braid)

ক্রাউন বেণী (Crown Braid)

মুখের আকার: গোল, হার্ট, ওভাল • উপলক্ষ: বিয়ে, দুর্গাপূজা, ঈদ, ফটোশুট

ক্রাউন বেণী মাথার চারপাশে পেঁচিয়ে ঠিক রানির মুকুটের মতো বসে। চাইলে সাধারণ তিন গোছার বেণী দিয়ে করো, নয়তো ফিশটেইল বা ডাচ বেণী দিয়েও বানানো যায়। মাথার উপরের অংশে একটু পফ তুলে নিলে মুকুটের ভাবটা আরও স্পষ্ট হয়। দু পাশে দুটো বেণী গেঁথে মাথার চারপাশে পেঁচিয়ে পিন দিয়ে আটকালেই ক্রাউন বেণী তৈরি। বিয়ের সাজে চাইলে চুল আগে হালকা কার্ল করে নাও, তারপর বেণীর ফাঁকে পোশাকের রঙে মেলানো ফুলের পাপড়ি গুঁজে দাও। তৈরি হতে লাগে ১০-১৫ মিনিট।

আমাদের একটা টিপ: বেণী মাথায় বসানোর পর কয়েকটা পিন বেশি দিয়ে ভালো করে আটকে নাও, না হলে অনুষ্ঠানের মাঝপথে খুলে আসতে পারে। তবে খুব টেনে বেঁধো না, মাথা ধরে যাবে।

৬. ব্লান্ট বব (Blunt Bob)

ব্লান্ট বব (Blunt Bob)

মুখের আকার: ওভাল, স্কয়ার, হার্ট • উপলক্ষ: অফিস, পার্টি, ফটোশুট, ক্যাজুয়াল

ঘন চুল হোক বা পাতলা, ব্লান্ট বব দুই ধরনেই দারুণ মানায়। চুলের শেষ একই দৈর্ঘ্যে সমান করে কাটা হয়, কোনো লেয়ার থাকে না। ঘন চুলে ওজন কমে হালকা লাগে, আর পাতলা চুলে উল্টো ভরাট আর ঘন দেখায়। চাইলে সোজা রাখো, ওয়েভি করো, কিংবা সামনে ব্যাং রেখে দাও, এক কাটেই অনেক রকম সাজ। চোয়াল বরাবর কাটা ধারালো শেষ মুখের গড়ন সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলে। ২০২৬-এও এই কাট সমান জনপ্রিয়।

আমাদের একটা টিপ: ব্লান্ট বব ঘরের কাঁচি দিয়ে কেটো না, সমান ধারটা নষ্ট হয়ে যাবে। ভালো পার্লারে কাটাও, আর প্রতি ৩-৪ সপ্তাহে একবার ছেঁটে নিলে কাটের আকার ধরে থাকে।

৭. লেয়ারড বব / লব (Layered Bob / Long Bob)

লেয়ারড বব / লব (Layered Bob / Long Bob)

মুখের আকার: ডায়মন্ড, লম্বাটে, হার্ট, ওভাল • উপলক্ষ: অফিস, পার্টি, ফটোশুট, ক্যাজুয়াল

লেয়ারড ববে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের লেয়ার চুলকে নরম করে আর ফুলিয়ে তোলে। সামনের ফেস ফ্রেমিং লেয়ার মুখের আদল আরও সুন্দর দেখায়। লব মানে এরই লম্বা রূপ, দৈর্ঘ্য থুতনি থেকে কাঁধের মাঝামাঝি। লেয়ার থাকার কারণে এই কাট সহজে নড়াচড়া করে, দেখতে প্রাণবন্ত লাগে। তবে এটা সবার জন্য এক রকম নয়। মুখের আকার আর চুলের ধরন বুঝে লেয়ার বসালে তবেই সবচেয়ে ভালো লাগে।

আমাদের একটা টিপ: লেয়ারড বব ভেজা চুলে কেটো না, শুকনো চুলে কাটালে চুলের আসল গড়ন বুঝে লেয়ার বসানো যায়। ডায়মন্ড, হার্ট বা লম্বাটে মুখে এই কাট সবচেয়ে খোলে।

৮. টেক্সচারড শর্ট লেয়ারড বব (Textured Short Layered Bob)

টেক্সচারড শর্ট লেয়ারড বব (Textured Short Layered Bob)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: অফিস, কলেজ, পার্টি, ক্যাজুয়াল

টেক্সচারড শর্ট লেয়ারড বব সবচেয়ে কম ঝামেলার কাটগুলোর একটা। কানের নিচ থেকে চোয়ালের উপর পর্যন্ত ছোট কাট, সাথে নরম হালকা ছড়ানো লেয়ার। দেখতে একটু অগোছালো, অথচ বেশ গোছানো। ব্লান্ট ববের চেয়ে এই কাট অনেক কম ছাঁটতে হয়, বড় হয়ে গেলেও বিশ্রী লাগে না। আর লোডশেডিংয়ে স্ট্রেইটনার চালাতে না পারলেও চিন্তা নেই, বাতাসে শুকালেই সুন্দর দেখায়, চুলেরও ক্ষতি কম।ছুটির দিনে এমনিই ছেড়ে রাখো, পার্টিতে একটু সেট করে নিলেই পরিপাটি।

আমাদের একটা টিপ: এই কাট ভালো পার্লারে শুকনো চুলে কাটাও, তাহলে লেয়ার চুলের সাথে সুন্দরভাবে মিশে যায়। আর জোরে ব্রাশ কোরো না, টেক্সচার নষ্ট হয়ে চুল ভেঙে যেতে পারে।

৯. পিক্সি কাট (Pixie Cut)

পিক্সি কাট (Pixie Cut)

মুখের আকার: ওভাল, হার্ট, গোল, ডায়মন্ড • উপলক্ষ: অফিস, গরমকাল, পার্টি, ক্যাজুয়াল

পিক্সি কাট চোখ আর গালের হাড় ফুটিয়ে তোলে, মুখটা দেখায় আরও তরুণ। চুল থাকে খুব ছোট, কান বেরিয়ে থাকে, শুধু মাথার উপরের অংশ একটু লম্বা। উপরের চুল একটু লম্বা থাকলে স্টাইল করাও সহজ হয়। ঢাকার গরমে এই কাট দারুণ আরামের। ঘাড়ে চুল লেগে ঘামার ঝামেলা নেই, মাথা থাকে ঠান্ডা। যত্নও লাগে খুব কম।

তবে একটা কথা, পিক্সি ঠিকমতো না কাটালে চুপসে গিয়ে চ্যাপ্টা দেখায়। তাই অবশ্যই ভালো পার্লারে কাটাও।

আমাদের একটা টিপ: অফিসে গেলে ফ্ল্যাট আয়রনে হালকা কার্ল করে পরিপাটি রাখো। আর ছুটির দিনে চুল একটু উড়ো-উড়ো ছেড়ে দিলেই মিষ্টি, ফুরফুরে একটা লুক।

১০. লং লেয়ারড কাট (Long Layered Cut)

লং লেয়ারড কাট (Long Layered Cut)

মুখের আকার: ওভাল, গোল, স্কয়ার • উপলক্ষ: অফিস, পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিয়ের আমন্ত্রণ

বাঙালি মেয়েদের ঘন চুলে লং লেয়ারড কাট জাদুর মতো কাজ করে। লম্বা চুল রাখতে চাও অথচ কাটতে মন চাইছে না, তাহলে এটাই তোমার কাট। দৈর্ঘ্য একই থাকবে, শুধু মুখের পাশে নরম লেয়ার পড়বে। এতে চেহারার চারপাশে একটা সুন্দর গড়ন তৈরি হয়। ভারী লাগবে না, আবার চুলে ফোলা ভাবও থাকবে।

শাড়ি পরে চুল খোলা রাখলে এই কাট সবচেয়ে সুন্দর লাগে।

আমাদের একটা টিপ: মাঝ থেকে শেষ পর্যন্ত অল্প শাইন সিরাম ঘষে নাও। লেয়ারগুলো তখন আলাদা হয়ে চকচক করে।

১১. সাইড-সুইপ্ট ব্যাং সহ লম্বা চুল (Side-Swept Bangs with Long Hair)

সাইড-সুইপ্ট ব্যাং সহ লম্বা চুল (Side-Swept Bangs with Long Hair)

মুখের আকার: গোল, লম্বাটে, হার্ট, ওভাল • উপলক্ষ: অফিস, কলেজ, ক্যাজুয়াল

সাইড-সুইপ্ট ব্যাং মানে সামনের কিছু চুল কপালের উপর দিয়ে এক পাশে কাত করে ফেলে রাখা। করাটা খুব সহজ। সামনের একগোছা চুল নাও, এক পাশে আঁচড়ে ভ্রুর উপর দিয়ে ফেলে দাও। ব্যস, হয়ে গেল।

দেখতে কেমন লাগে? মুখটা নরম আর মিষ্টি দেখায়। কপাল একটু বড় হলে সামনের চুল সেটা ঢেকে দেয়। লম্বা চুলের সাথে এই ব্যাং দারুণ মানায়, আর বড় হয়ে গেলেও আলাদা করে বোঝা যায় না, চুলের সাথে মিশে যায়। একটা কথা বলে রাখি। ঢাকার গরমে কপাল ঘামলে সামনের চুল তেলতেলে হয়ে যায়, গোছা গোছা লাগে। কপাল বেশি ঘামলে একটু সমস্যা হতে পারে।

আমাদের একটা টিপ: ব্যাগে একটা টিস্যু রাখো, চুল তেলতেলে লাগলে চেপে নাও। আর চুল চোখে পড়া শুরু করলে অল্প কেটে ছোট করে নিও।

১২. কার্টেইন ব্যাং (Blunt / Curtain Bangs)

কার্টেইন ব্যাং (Blunt / Curtain Bangs)

মুখের আকার: গোল, হার্ট, স্কয়ার • উপলক্ষ: অফিস, পার্টি, ক্যাজুয়াল

কার্টেইন ব্যাং মানে সামনের চুল মাঝখান থেকে দুই পাশে ভাগ করে মুখের দুই দিকে ফেলে দেওয়া, ঠিক যেন জানালার পর্দা দুই দিকে খুলে গেছে। করা সহজ। সামনের চুল মাঝ বরাবর ভাগ করো, দুই পাশের চুল গাল ঘেঁষে নিচের দিকে ফেলে দাও।

চুল দুই পাশ থেকে মুখটা সুন্দর করে ঘিরে রাখে, মুখ একটু পাতলা আর মিষ্টি লাগে। গোলগাল মুখে এটা বিশেষ ভালো মানায়, সাথে একটু ফোলা ভাব এসে চেহারায় তারুণ্য আসে।

চুল খুব পাতলা হলে কার্টেইন ব্যাংয়ের বদলে ব্লান্ট ব্যাং নিতে পারো, সোজা করে কপালে নামানো এই ব্যাং চুল ঘন দেখায়। তবে মুখ লম্বাটে হলে ব্লান্ট ব্যাং এড়িয়ে চলো, মুখ আরও লম্বা লাগে। ব্যাং নিজে কাটা কঠিন, পার্লারে কাটানোই ভালো।

আমাদের একটা টিপ: ব্যাগে ছোট একটা চিরুনি রাখো। ঢাকার গরমে ঘামে ব্যাং এলোমেলো হয়ে গেলে চট করে আঁচড়ে নাও। আর প্রতি ৬-৮ সপ্তাহে অল্প ছেঁটে নিলে ব্যাংয়ের আকার ঠিক থাকে।

১৩. মাইক্রো / বক্স ব্রেইড (Micro / Box Braids)

মাইক্রো / বক্স ব্রেইড (Micro / Box Braids)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: লম্বা সময়ের জন্য, ভ্রমণ, ক্যাজুয়াল, পার্টি

মাইক্রো বক্স ব্রেইড মানে চুলকে ছোট ছোট চারকোনা ভাগে ভাগ করে অনেকগুলো খুব সরু বেণী গেঁথে ফেলা। একেকবারে ৫০০ থেকে ১০০০টা পর্যন্ত সরু বেণী হতে পারে। চাইলে নকল চুল জুড়ে বেণী লম্বা করা যায়, একদম কোমর পর্যন্ত।

অনেকগুলো সরু বেণী মিলে চুল ভরাট আর লম্বা দেখায়, লুকটা হয় ট্রেন্ডি আর একটু এজি। সবচেয়ে বড় সুবিধা, বেণী করা থাকলে আসল চুল ভেতরে সুরক্ষিত থাকে, রোজকার টানাহেঁচড়া থেকে বাঁচে।

তবে কয়েকটা কথা জেনে রাখা জরুরি। এত সরু বেণী গাঁথতে ৬-১০ ঘণ্টা লেগে যায়, খরচও ভালোই পড়ে। বেণী খুব টাইট করালে মাথা ব্যথা হয়, এমনকি গোড়া থেকে চুল উঠে যেতে পারে। তাই খুব টানটান করে বাঁধিও না, আর ৮ সপ্তাহের বেশি রেখো না।

আমাদের একটা টিপ: ঢাকার গরমে বেণীর নিচে মাথা ঘেমে চুলকাতে পারে, তাই সপ্তাহে একবার মাথার ত্বকে অল্প তেল ম্যাসাজ করো। আর বেণী খোলার পর সাথে সাথে আবার করিও না, দু সপ্তাহ বিরতি দিয়ে চুলকে বিশ্রাম দাও।

১৪. লো বান (Low Bun)

লো বান (Low Bun)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: অফিস, কলেজ, পার্টি, বিয়ের অনুষ্ঠান

লো বান মানে ঘাড়ের কাছে নিচু করে চুল পেঁচিয়ে গোল খোঁপা বানানো। করা ভীষণ সহজ। চুল পেছনে এনে নিচু করে একটা পনিটেইল বাঁধো, তারপর চুলটা পেঁচিয়ে গোল করে ববি পিন দিয়ে আটকে দাও।

নরম, পরিপাটি আর বেশ মার্জিত একটা ভাব আসে। চুল ভারী লাগে না, অথচ গোছানো দেখায়। শাড়ি হোক বা অফিসের পোশাক, সবকিছুর সাথেই মানিয়ে যায়। একটা মজার ব্যাপার, অনেকের উঁচু খোঁপা করলে মাথা ধরে যায়। নিচু করে বান করলে সেই টানটা থাকে না, আরাম লাগে। তবে চুল খুব ঘন হলে বানের আকার ধরে রাখতে একটু ববি পিন বেশি লাগবে।

আমাদের একটা টিপ: পাশ থেকে সামনের দিকে অল্প একটু চুল বের করে রাখো, মুখটা নরম দেখায়। ঢাকার আর্দ্রতায় চুল একটু উড়লেও মেসি লো বানে সেটা বরং সুন্দর লাগে।

১৫. হাফ-আপ হাফ-ডাউন (Half-Up Half-Down)

হাফ-আপ হাফ-ডাউন (Half-Up Half-Down)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: অফিস, কলেজ, পার্টি, বিয়ের অনুষ্ঠান

হাফ-আপ হাফ-ডাউন মানে উপরের অর্ধেক চুল বেঁধে রাখা, নিচের অর্ধেক খোলা ছেড়ে দেওয়া। পাঁচ মিনিটেই হয়ে যায়। কান বরাবর উপরের অংশের চুল পেছনে এনে ববি পিন দিয়ে আটকে দাও, বাকি চুল এমনিই ছেড়ে রাখো।

উপরে গোছানো, নিচে চুল খোলা, দুটোর সুন্দর একটা মিশেল। মুখটা সামনে থেকে ফ্রেম হয়ে যায়, চোখ দুটো ফুটে ওঠে। চুল পাতলা হলেও উপরে একটু ফোলা ভাব এনে ভরাট দেখানো যায়। চাইলে উপরের অংশটা শুধু পনিটেইল করো, নয়তো ছোট্ট একটা বান বা বেণী। অফিস হোক বা বিয়েবাড়ি, সবখানেই চলে। তবে চুল খুব ছোট হলে এই স্টাইল করা কঠিন, একটু লম্বা চুল লাগে।

আমাদের একটা টিপ: ঢাকার গরমে রাস্তায় বেরোলে সামনের চুল ঘামে মুখে লেপটে যায়। হাফ-আপ করলে সামনের অংশ বাঁধা থাকে, মুখে লাগে না, অথচ খোলা চুলের সুন্দর ভাবটাও থাকে।

১৬. হাই পনিটেইল (High Ponytail)

হাই পনিটেইল (High Ponytail)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: কলেজ, ক্যাজুয়াল, পার্টি, গরমকাল

হাই পনিটেইল মানে সব চুল মাথার উপরের দিকে টেনে উঁচু করে বেঁধে ফেলা। পাঁচ মিনিটের কাজ। চুল আঁচড়ে উপরে তুলে এক জায়গায় জড়ো করো, রাবার ব্যান্ড বা স্ক্রাঞ্চি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দাও।

মুখটা একটু লম্বা আর সরু দেখায়, পুরো সাজে একটা ঝরঝরে তরুণ ভাব আসে। ঘন চুলে এটা সবচেয়ে দারুণ লাগে। চাইলে রাবার ব্যান্ডের চারপাশে অল্প চুল পেঁচিয়ে ঢেকে দিলে আরও পরিপাটি দেখায়। ঢাকার গরমে এটা সবচেয়ে আরামের। সব চুল উপরে উঠে যাওয়ায় ঘাড় পুরো খোলা থাকে, ঘাম আর আঠালো ভাব কম লাগে। চাইলে পনিটেইলটা বেণি করে নাও, নয়তো একটু কার্ল করে ছেড়ে দাও।

আমাদের একটা টিপ: উঁচু করে বাঁধলেও খুব টাইট করে বেঁধো না। সারাদিন টানটান থাকলে মাথা ধরে যেতে পারে, একটু আলগা রাখলেই আরাম।

১৭. লুজ ওয়েভস (Loose Waves)

লুজ ওয়েভস (Loose Waves)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: পার্টি, ফটোশুট, ক্যাজুয়াল, বিশেষ অনুষ্ঠান

লুজ ওয়েভস মানে চুলে আলগা, নরম ঢেউ, কার্লের চেয়ে হালকা আর সোজা চুলের চেয়ে একটু ঢেউখেলানো। মজার ব্যাপার, গরম যন্ত্র ছাড়াই এটা করা যায়। একটা বড় রাবার ব্যান্ড মাথায় পরো, নিচের চুল অল্প পানিতে ভিজিয়ে ছোট ছোট গোছায় পেঁচিয়ে ব্যান্ডে আটকে দাও। আধ ঘণ্টা পর খুলে ফেললেই নরম ঢেউ।

চুলে একটা রোমান্টিক, নরম আর গ্ল্যামারাস ভাব আসে। সাথে চুল ফুলে ওঠে, তাই পাতলা চুলও ভরাট দেখায়। একটা কথা মাথায় রেখো, ঢাকার আর্দ্র আবহাওয়ায় ঢেউ দ্রুত পড়ে যায়। গরম ওয়ান্ড দিয়ে করলে আগে অবশ্যই হিট প্রোটেকটেন্ট লাগিয়ে নিও, না হলে চুল পুড়ে যেতে পারে।

আমাদের একটা টিপ: ঢেউ বেশিক্ষণ রাখতে চাইলে শেষে অল্প হেয়ারস্প্রে বা টেক্সচার ক্রিম দিয়ে নাও। দামি কিছু লাগে না, সস্তা পণ্যেই কাজ চলে যায়।

১৮. ব্রাইডাল বেণী-খোঁপা (Braided Bridal Bun)

ব্রাইডাল বেণী-খোঁপা (Braided Bridal Bun)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: বিয়ে, গায়ে হলুদ, মেহেদি, বিশেষ অনুষ্ঠান

ব্রাইডাল বেণী-খোঁপা মানে চুলে বেণী গেঁথে সেটা পেঁচিয়ে খোঁপা বানানো, বিয়ের সাজের জন্য একদম মানানসই। ঘাড়ের কাছে নিচু করে চুলের একটা পনিটেইল করো, পনিটেইলটা রোল করে খোঁপা বানাও। দুই পাশে আলাদা করে দুটো বেণী গেঁথে খোঁপার উপর দিয়ে পেঁচিয়ে ববি পিন দিয়ে আটকে দাও।

গর্জিয়াস, গোছানো আর বেশ সাবেকি একটা ভাব আসে। বেনারসি শাড়ির সাথে এই খোঁপা অসাধারণ মানায়। চারপাশে কয়েকটা ফুল গুঁজে দিলেই পুরোদস্তুর কনের সাজ। মজার ব্যাপার, এই খোঁপা পার্লারে না গিয়ে নিজে নিজেই করা যায়, ১০ মিনিটেই হয়ে যায়। বিয়েবাড়ির পার্লারের খরচটাও বেঁচে যায়। তবে প্রথমবার একটু কঠিন লাগতে পারে, দু-একবার বাসায় চেষ্টা করে নিও।

আমাদের একটা টিপ: চুল পাতলা হলে খোঁপার ভেতরে একটা বান রোলার দিয়ে নাও, খোঁপা ভরাট দেখাবে। আর শেষে অল্প হেয়ারস্প্রে দিয়ে সেট করো, না হলে অনুষ্ঠানের মাঝপথে খুলে আসতে পারে।

১৯. সাইড-ফিশটেইল উইথ সাইড পার্ট (Side-Fishtail with Side Part)

সাইড-ফিশটেইল উইথ সাইড পার্ট (Side-Fishtail with Side Part)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: কলেজ, পার্টি, গরমকাল, ক্যাজুয়াল

সাইড-ফিশটেইল উইথ সাইড পার্ট মানে মাথার এক পাশে গভীর সিঁথি করে চুল এক কাঁধে এনে ফিশটেইল বেণী গাঁথা। চুল দুই ভাগ করো, এক ভাগের বাইরের কিনারা থেকে সরু এক গোছা তুলে অন্য ভাগে দাও, উল্টো দিক থেকেও একই কাজ। এভাবে নিচ পর্যন্ত গেঁথে যাও, আর সামনের অল্প কিছু চুল কার্ল করার জন্য ছেড়ে রেখো।

মাছের লেজের মতো সুন্দর নকশাটা এক কাঁধে নেমে আসে, দেখতে অনেক যত্নের মনে হয়। সামনের ছেড়ে রাখা চুল কার্ল করে নিলে মুখের দুই পাশ নরম করে ঘিরে রাখে। গাঁথার পর বেণীটা আঙুল দিয়ে একটু টেনে চওড়া করলে আরও ভরাট লাগে। ঢাকার আর্দ্র গরমে খোলা চুল ফেঁপে যায়, জট পাকায়। বেণী করা থাকলে চুল বাঁধা থাকে, সারাদিন এলোমেলো হয় না। একটা কথা, গোছাগুলো যত সরু নেবে, মাছের লেজের নকশা তত সুন্দর ফুটবে।

আমাদের একটা টিপ: সামনের কার্ল করা চুলটুকু মুখ থেকে বাইরের দিকে কার্ল করো, মুখটা বেশি খোলা আর মিষ্টি লাগে। শেষে অল্প হেয়ারস্প্রে দিলে সারাদিন টিকে থাকবে।

২০. মেসি লব (Messy Lob)

মেসি লব (Messy Lob)

মুখের আকার: সব মুখের আকার • উপলক্ষ: কলেজ, অফিস, ক্যাজুয়াল, ক্যাজুয়াল পার্টি

মেসি লব মানে চোয়াল বা কাঁধ ছোঁয়া লব কাটকে আলগা, ঢেউখেলানো আর একটু অগোছালো করে স্টাইল করা। চুল কয়েক ভাগে ভাগ করে ওয়ান্ড দিয়ে হালকা ওয়েভ করে নাও। ঠান্ডা হলে আঙুল দিয়ে কার্ল আলগা করে দাও, মাথার উপরের চুল একটু ফুলিয়ে নিলে ফোলা ভাব আসে।

মনে হবে চুল নিয়ে আলাদা করে কিছুই করোনি, অথচ দিব্যি স্টাইলিশ। আলগা ঢেউ আর অগোছালো ভাবে চুলে একটা তরুণ, ট্রেন্ডি লুক আসে। চুল পাতলা হলেও ভরাট দেখায়। ঢাকার রোজকার ছোটাছুটিতে এটা দারুণ, ১০ মিনিটেই হয়ে যায়। আর ভালো খবর, দিনের শেষে ঢেউ একটু পড়ে গেলেও স্টাইলটা বরং আরও অগোছালো-সুন্দর লাগে। তবে ওয়েভ করতে গরম ওয়ান্ড লাগবে, তাই আগে হিট প্রোটেকটেন্ট লাগিয়ে নিও।

আমাদের একটা টিপ: ওয়েভ করার পর অল্প সার্ফ স্প্রে বা সাশ্রয়ী টেক্সচার ক্রিম দিয়ে নাও, অগোছালো ভাবটা সারাদিন থাকবে। বেশি পরিপাটি করতে যেও না, এই স্টাইলের আসল সৌন্দর্যটাই তো অগোছালোয়।

কোন মুখের গঠনে কোন চুলের স্টাইল?

মুখের গঠন বুঝে নিলে চুলের স্টাইল বাছাই অনেক সহজ হয়ে যায়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার দেখে নাও, তোমার চোয়াল, কপাল আর গাল কেমন। কোন স্টাইল তোমাকে মানাবে, অনেকটাই এর উপর নির্ভর করে।

  • ওভাল মুখ: প্রায় সব স্টাইলই দিব্যি মানায়, এদিক থেকে তুমি সবচেয়ে ভাগ্যবান।
  • গোল মুখ: মুখের পাশে চুল নেমে আসে এমন কাট ভালো লাগে, যেমন লং লেয়ার বা সাইড ব্যাং। সাথে মাথার উপরে একটু ফোলা ভাব থাকলে মুখ একটু লম্বাটে দেখায়। চুল কানের পেছনে শক্ত করে টেনে বাঁধা স্টাইল এড়িয়ে চলো, এতে মুখ আরও গোল লাগে।
  • লম্বাটে মুখ: দুই পাশে ফোলা ভাব আনে এমন স্টাইল ভালো, যেমন ঢেউখেলানো চুল বা কার্টেইন ব্যাং। হাই পনিটেইল বা টানটান করে বাঁধা বান এড়িয়ে চলো, এগুলো মুখকে আরও লম্বা দেখায়।
  • হার্ট আকৃতির মুখ: চোয়ালের পাশে নরম ভাব দরকার, যেমন সাইড-সুইপ্ট ব্যাং বা নরম ঢেউ। মাথার উপরে বেশি ফোলা ভাব এনো না, এতে কপাল আরও চওড়া দেখায়।
  • স্কয়ার মুখ: নরম লেয়ার, কার্টেইন ব্যাং আর লুজ ওয়েভস চোয়ালের ধারালো কোণগুলো নরম করে দেয়।

কোন অনুষ্ঠানে কোন চুলের স্টাইল?

চুলের স্টাইল বাছাইয়ের সবচেয়ে কাজের উপায় একটাই, তুমি কোথায় যাচ্ছ সেটা ভাবা। নিচে কয়েকটা চেনা অনুষ্ঠান আর তার সাথে মানানসই স্টাইল সাজিয়ে দিলাম।

  • অফিস বা ইন্টারভিউ: ক্লাসিক খোঁপা, লো বান, টানটান হাই পনিটেইল, ব্লান্ট বব।
  • কলেজ বা ঘোরাঘুরি: একপাশের বেণী, দুই বেণী, মেসি লব, সাইড-সুইপ্ট ব্যাং।
  • বিয়ের অতিথি বা রিসেপশন: ক্রাউন বেণী, হাফ-আপ হাফ-ডাউন, লুজ ওয়েভস, সাইড-ফিশটেইল।
  • কনের সাজ: ব্রাইডাল বেণী-খোঁপা, ক্রাউন বেণী।
  • মেহেদি বা হলুদ: ফিশটেইল বেণী, সাইড-ফিশটেইল, হাফ-আপ হাফ-ডাউন।
  • পরীক্ষা বা ভ্রমণ: মাইক্রো বক্স ব্রেইড, একপাশের বেণী, লো বান।

ঢাকার গরম আর আর্দ্রতায় কোন চুলের স্টাইল টিকে থাকে?

এপ্রিল থেকে অক্টোবরের ঢাকায় যে একবার বেরিয়েছে, সে-ই জানে, সকালে যেভাবে চুল বেঁধে বেরোও দুপুর গড়াতেই সেটা অন্যরকম হয়ে যায়। ঘাম, আর্দ্রতা আর ধুলো, এই তিনটার সাথে কিছু স্টাইল অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো লড়াই করে।

সবচেয়ে নিরাপদ বাঁধা চুলের স্টাইল, যেমন খোঁপা, বান, বেণী বা পনিটেইল। চুল খোলা রাখলে একদিকে ফেঁপে ওঠে, আরেকদিকে ঘামে ভিজে যায়, স্টাইল আর টেকে না। লুজ ওয়েভস বা ব্লান্ট বব এসি ঘরে দারুণ লাগে, কিন্তু রাস্তায় ১৫ মিনিট হাঁটলেই আগের চেহারা আর থাকে না।

চট্টগ্রাম বা সিলেটে যারা থাকো, তোমাদের ওখানে আর্দ্রতা ঢাকার চেয়েও বেশি। তাই বাঁধা স্টাইল তোমাদের জন্য আরও বেশি জরুরি। কক্সবাজার বা কুয়াকাটায় বেড়াতে গেলে মাইক্রো বক্স ব্রেইড করিয়ে নাও, পুরো সময়টায় চুল নিয়ে আর ভাবতে হবে না।

চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী কোন স্টাইল?

চুলের দৈর্ঘ্য বুঝে স্টাইল বাছাই করলে ফল সবসময় ভালো আসে। নিচে ছোট থেকে লম্বা, প্রতিটা দৈর্ঘ্যের জন্য মানানসই স্টাইল সাজিয়ে দিলাম।

  • ছোট চুল (কান পর্যন্ত): পিক্সি কাট, ব্লান্ট বব, কার্টেইন ব্যাংসহ বব।
  • কাঁধ পর্যন্ত চুল: লব, লেয়ারড বব, মেসি লব, টেক্সচারড শর্ট লেয়ারড বব।
  • পিঠ পর্যন্ত চুল: লং লেয়ারড কাট, সাইড-সুইপ্ট ব্যাং, লুজ ওয়েভস, লো বান।
  • কোমর বা তার বেশি লম্বা চুল: সব ধরনের বেণী, খোঁপা, ক্রাউন বেণী, ব্রাইডাল বেণী-খোঁপা।

স্টাইলের আগে চুলের রঙের কথা

একটা জিনিস অনেকেই খেয়াল করে না, চুলের রঙ কিন্তু স্টাইলের পুরো চেহারা বদলে দেয়। ধরো লং লেয়ারড কাটে যদি হালকা হাইলাইট থাকে, লেয়ারগুলো অনেক বেশি ফুটে ওঠে। আবার মেসি লবে বালায়াজ থাকলে টেক্সচার এমনিতেই বেড়ে যায়।

চুলের স্টাইল পাল্টানোর সাথে সাথে রঙ নিয়েও যদি ভাবো, তাহলে আমাদের আলাদা একটা গাইড আছে, বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য সেরা চুলের রঙের গাইড, যেখানে কোন গায়ের রঙে কোন রঙ ভালো মানাবে সব বিস্তারিত বলা আছে। স্টাইল আর রঙ, দুটো একসাথে ভাবলেই ফল সবচেয়ে মনের মতো হয়।

চুলের স্টাইল ধরে রাখার ছোট কিছু অভ্যাস

যত সুন্দর স্টাইলই করো, চুলের গোড়া ভালো না থাকলে দু ঘণ্টায় সেটা ভেঙে যাবে। কয়েকটা ছোট অভ্যাস সব স্টাইলের জন্যই কাজে লাগে।

  • রাতে সিল্ক বা সাটিনের বালিশের কভার ব্যবহার করো, এতে চুল কম ফেঁপে ওঠে।
  • ঘুমের আগে চুল আলগা করে বেণী করে রাখো, পরদিন স্টাইল সহজে বসে।
  • কার্লিং আয়রন বা স্ট্রেইটনার ব্যবহারের আগে হিট প্রোটেকটেন্ট অবশ্যই লাগাও, এটা বাদ দেওয়ার জিনিস না।
  • যেসব হেয়ার টাইয়ে ধাতব ক্লিপ থাকে, সেগুলো এড়িয়ে চলো, চুল ছিঁড়ে যায়।
  • সপ্তাহে একদিন তেল দিয়ে রাতভর রেখে পরদিন ধুয়ে ফেলো, চুলের গোড়া শক্ত থাকলে যেকোনো স্টাইল বেশি দিন টেকে।

শেষ কথা

মেয়েদের চুলের স্টাইল ঠিক করা ছোট একটা সিদ্ধান্ত, কিন্তু এটা সারাদিন তোমার আত্মবিশ্বাসে বড় প্রভাব ফেলে। নতুন কিছু চেষ্টা করতে ভয় পেও না, চুল আবার বাড়বে, কিন্তু একটা নতুন স্টাইল তোমাকে নিজের সম্পর্কে নতুন কিছু শেখায়।

এই গাইডে মেয়েদের চুলের স্টাইলের যত ধরন দেখলে, সেখান থেকে দুটো বেছে নাও, একটা প্রতিদিনের সহজ দিনের জন্য, আরেকটা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য। বাড়িতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকবার অনুশীলন করো। প্রথমবার নিখুঁত হবে না, দ্বিতীয়বার একটু ভালো, তৃতীয়বার তুমি নিজেই অবাক হবে।

ধীরে ধীরে মেয়েদের চুলের স্টাইলে তোমার নিজের একটা ধরন তৈরি হবে। শেষমেশ যেটায় তোমাকে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ লাগে, সেটাই তোমার আসল স্টাইল।

মেয়েদের জন্য সবচেয়ে সহজ চুলের স্টাইল কোনটি?

সবচেয়ে সহজ স্টাইল একপাশের বেণী আর লো বান। দুটোই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে করা যায়, আলাদা কোনো যন্ত্র লাগে না। নতুন শিখলে এই দুটো দিয়ে শুরু করাই ভালো।

ঢাকার গরম আর আর্দ্রতায় কোন চুলের স্টাইল বেশি দিন টেকে?

বাঁধা চুলের স্টাইল, যেমন খোঁপা, বান, বেণী বা পনিটেইল, ঢাকার গরমে সবচেয়ে ভালো টেকে। চুল খোলা রাখলে ঘাম আর আর্দ্রতায় সেটা ফেঁপে ওঠে, কয়েক ঘণ্টাতেই স্টাইল ভেঙে যায়। চট্টগ্রাম বা সিলেটে আর্দ্রতা আরও বেশি, তাই ওখানে বাঁধা স্টাইল আরও জরুরি।

ছোট চুলে কোন স্টাইল ভালো মানায়?

ছোট চুলে পিক্সি কাট, ব্লান্ট বব আর কার্টেইন ব্যাংসহ বব ভালো মানায়। কান পর্যন্ত চুল হলে এই স্টাইলগুলো মুখের গঠন সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। তবে পিক্সি কাট পাতলা চুলে চ্যাপ্টা দেখাতে পারে, তখন একটু টেক্সচার যোগ করে নিতে হয়।

পাতলা চুল ভরাট দেখাতে কোন স্টাইল করব?

পাতলা চুল ভরাট দেখাতে লেয়ারড বব বা টেক্সচারড শর্ট লেয়ারড বব সবচেয়ে ভালো কাজ করে। লেয়ার চুলে ফোলা ভাব আর নড়াচড়া আনে, ফলে চুল অনেক বেশি ভরাট দেখায়। লম্বা সোজা কাট পাতলা চুলকে আরও পাতলা দেখায়, তাই সেটা এড়ানো ভালো।

গোল মুখে কোন চুলের স্টাইল ভালো লাগে?

গোল মুখে লং লেয়ারড কাট আর সাইড পার্ট ভালো লাগে, কারণ এগুলো মুখকে একটু লম্বাটে দেখায়। কার্টেইন ব্যাং বা সাইড-সুইপ্ট ব্যাংও গোল মুখের সাথে মানিয়ে যায়। একদম সোজা ব্লান্ট ব্যাং গোল মুখে এড়িয়ে চলাই ভালো।

অফিস বা ইন্টারভিউয়ের জন্য কোন চুলের স্টাইল মানানসই?

অফিস বা ইন্টারভিউয়ে ক্লাসিক খোঁপা, লো বান, টানটান হাই পনিটেইল আর ব্লান্ট বব সবচেয়ে মানানসই। এই স্টাইলগুলো পরিপাটি দেখায় আর সারাদিন গুছিয়ে থাকে। বাঁধা স্টাইল হওয়ায় কাজের ফাঁকে চুল নিয়ে বারবার ভাবতে হয় না।

বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে কোন চুলের স্টাইল করা যায়?

বিয়ের অতিথি হিসেবে ক্রাউন বেণী, হাফ-আপ হাফ-ডাউন, লুজ ওয়েভস বা সাইড-ফিশটেইল করা যায়। এই স্টাইলগুলো উৎসবের সাজের সাথে মানায়, ছবিতেও সুন্দর আসে। সাথে ছোট ফুল বা সাজানো পিন যোগ করলে আরও আকর্ষণীয় লাগে।

মাইক্রো বক্স ব্রেইড কতদিন রাখা যায়?

মাইক্রো বক্স ব্রেইড সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ রাখা যায়। বেশি দিন রাখলে মাথার ত্বকে টান পড়ে, চুলের গোড়া দুর্বল হতে পারে। তাই সময়মতো খুলে ফেলা আর মাঝে মাঝে মাথার ত্বককে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি।

চুল না কেটে কীভাবে নতুন স্টাইল আনা যায়?

চুল না কেটেও বেণী, খোঁপা, পনিটেইল বা লুজ ওয়েভস দিয়ে সহজে নতুন চেহারা আনা যায়। এগুলোর জন্য শুধু হাতের কাজ আর কয়েকটা পিন লাগে, স্থায়ী কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাঁধা স্টাইল দিয়ে নতুন লুক যাচাই করে নেওয়া ভালো।

হিট বা যন্ত্র ছাড়া কীভাবে চুলে কার্ল আনা যায়?

হিট ছাড়া কার্ল আনতে ভেজা চুল আলগা বেণী করে বা কাপড়ের ব্যান্ডে পেঁচিয়ে রাতভর রেখে দাও। সকালে খুললে নরম প্রাকৃতিক ঢেউ পাওয়া যায়, চুলেরও ক্ষতি হয় না। ঢাকার আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ঢেউ দ্রুত পড়ে যেতে পারে, তাই হালকা সার্ফ স্প্রে দিলে বেশিক্ষণ থাকে।

Table of Contents