Blog
মেয়েদের জন্য চুলের কালার কোনটা ভালো? ১০টি সেরা কালারের পূর্ণাঙ্গ গাইড
Table of Contents
মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আর বহুমুখী চুলের কালার বলতে আমরা সবার আগে রাখি ব্রুনেট (Brunette) আর মিডিয়াম ব্রাউন (Medium Brown)। এই দুটো শেড বাংলাদেশী ত্বকের প্রায় যেকোনো রঙের সাথে মিশে যায়। তবে আপনার জন্য কোনটা ঠিক, সেটা নির্ভর করে ত্বকের রঙ, আন্ডারটোন আর কতটা পরিবর্তন আপনি আসলে চাইছেন তার ওপর।
এই গাইডে আমরা ১০টা জনপ্রিয় শেড নিয়ে কথা বলেছি। সব ত্বকে মানিয়ে যায় এমন শেডের কথা বললে এগিয়ে থাকবে ব্রুনেট, মিডিয়াম ব্রাউন আর মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন (Medium Reddish Brown)। ক্লাসিক লুক বা পাকা চুল ঢাকার জন্য কালো (Black) আর বার্গেন্ডি (Burgundy) সবচেয়ে ভালো কাজ করে। চুলে একটু উষ্ণ আভা চাইলে অবার্ন (Auburn) দারুণ অপশন। বড় পরিবর্তন চাইলে গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড (Golden Beige Blonde), টরটিলা (Tortilla / Milk Tea Brown) বা কুল ব্লন্ড (Cool Blonde) ভাবতে পারেন। আর যাঁরা সাহসী, ফ্যাশন-ফরোয়ার্ড লুকে যেতে রাজি, তাঁদের জন্য চেরি রেড (Cherry Red)।
পুরো গাইডটা পড়ে নিন, অথবা এক নজরে Quick Compare টেবিল থেকে আপনার ত্বকের রঙ অনুযায়ী শেডটা সরাসরি বেছে নিন।
এক নজরে সেরা ১০টি চুলের কালার এবং কোনটা কার জন্য
| কালারের নাম | কোন ত্বকের রঙে মানাবে | যত্নের মাত্রা |
|---|---|---|
| ব্রুনেট | প্রায় সব ত্বকের রঙে; মাঝারি ফর্সা আর শ্যামলায় সবচেয়ে ভালো | কম |
| মিডিয়াম ব্রাউন | নিউট্রাল আর ওয়ার্ম আন্ডারটোন; সব ত্বকের রঙে | কম |
| মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন | ওয়ার্ম, নিউট্রাল, শ্যামলা ত্বকে | মাঝারি |
| কালো | কুল, নিউট্রাল, গভীর শ্যামলা ত্বকে | কম |
| অবার্ন | ওয়ার্ম আর নিউট্রাল; মাঝারি থেকে শ্যামলায় | মাঝারি |
| বার্গেন্ডি | মাঝারি থেকে গভীর শ্যামলায় | মাঝারি |
| গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড | ওয়ার্ম, নিউট্রাল; উজ্জ্বল ফর্সা থেকে মাঝারি ফর্সায় | বেশি |
| টরটিলা | কুল আর নিউট্রাল; হালকা থেকে মাঝারি ফর্সায় | বেশি |
| চেরি রেড | কুল আন্ডারটোন; ফর্সা থেকে মাঝারি ফর্সায় | বেশি |
| কুল ব্লন্ড | উজ্জ্বল ফর্সা, কুল আন্ডারটোন | বেশি |
আপনার ত্বকের রঙ আর আন্ডারটোন কীভাবে চিনবেন, সেটা একটু পরেই বিস্তারিত বলছি। তার আগে চলুন ১০টা শেড একে একে দেখে নিই। কোনটার আসল চেহারা কেমন, কাকে মানাবে, আর কোথায় কোনটা একটু পিছিয়ে পড়ে।
মেয়েদের জন্য সেরা ১০টি চুলের কালার
প্রতিটা শেডের জন্য আমরা একই কাঠামোয় কথা বলেছি। প্রথমে শেডটা আসলে দেখতে কেমন, তারপর কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে, কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে কাজ করে, আর সবশেষে আমাদের টিম যে সীমাবদ্ধতাগুলো লক্ষ্য করেছে। শেডগুলো সাজানো হয়েছে সবার-জন্য-নিরাপদ থেকে শুরু করে, যাঁরা বড় পরিবর্তন বা সাহসী লুক চান, তাঁদের জন্য, সেই ক্রমে।
১. ব্রুনেট

ব্রুনেট হলো গাঢ় বাদামি একটা রং, কালোর মতো কড়া না, আবার ব্রাউনের মতো হালকাও না। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ একটাই: চুলে একটা এক্সপেনসিভ-লুকিং ফিনিশ চলে আসে। দেখে মনে হয় চুলটা পার্লারে যত্ন নিয়ে রঙ করানো, যদিও আপনি হয়তো ঘরেই করেছেন। প্রথমবার চুলে কালার করছেন এমন কেউ আমাদের কাছে এলে, আমরা বেশিরভাগ সময় ব্রুনেট দিয়েই শুরু করতে বলি।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: প্রায় সব ত্বকের রঙেই মানিয়ে যায়, তবে মাঝারি ফর্সা আর শ্যামলা ত্বকে সবচেয়ে স্বাভাবিক দেখায়। নিউট্রাল আর ওয়ার্ম আন্ডারটোনে এটা একদম মিশে যায়।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: মাঝারি থেকে লম্বা চুল, স্ট্রেট বা একটু ওয়েভি টেক্সচার। ব্লান্ট কাট হোক বা সফট লেয়ার্ড, দুটোতেই বসে যায়।
আমাদের অভিমত: ব্রুনেটের একটাই সমস্যা: এটা একটু সেফ দেখাতে পারে। চুলে দৃশ্যমান ডাইমেনশন বা মুভমেন্ট চাইলে শুধু ব্রুনেট দিয়ে সেটা পাওয়া যাবে না, কিছু লাইটার হাইলাইট বা বালায়াজ যোগ করতে হবে।

২. মিডিয়াম ব্রাউন

মিডিয়াম ব্রাউন ব্রুনেটের চেয়ে এক ধাপ হালকা। সাধারণ বাদামি, কিন্তু আলো পড়লে চুলে একটু উষ্ণতা চলে আসে। যাঁরা চান চুলটা কালারড লাগুক, অথচ আমি চুল রঙ করেছি এমন প্রকট ভাবটা না আসুক, তাঁদের জন্য এটাই সবচেয়ে ভালো পছন্দ। বাংলাদেশী মেয়েদের চুলে এই শেডটা পরিচিত, চোখেও আরাম দেয়।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: নিউট্রাল আর ওয়ার্ম আন্ডারটোনে সবচেয়ে ভালো বসে। ফর্সা থেকে শ্যামলা যেকোনো রেঞ্জে কাজ করে, তবে গভীর শ্যামলা ত্বকে কনট্রাস্টটা একটু কমে আসতে পারে।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: কাঁধ-পর্যন্ত চুল, সফট লেয়ার, ব্লো-আউট। দৈনন্দিন অফিস বা ক্যাজুয়াল লুকে চমৎকার মানিয়ে যায়।
আমাদের অভিমত: মিডিয়াম ব্রাউন পরিষ্কার দেখায়, কিন্তু রোমাঞ্চকর না। স্টেটমেন্ট কালার চাইলে এটা আপনার শেড না। এটা প্রতিদিনকার পরিশীলিত লুক দেয়, নজর কাড়ার কাজ করে না।

৩. মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন

এই শেডটাকে আমরা বলব এই তালিকার সবচেয়ে আন্ডাররেটেড শেড। মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন বাদামি আর লালের ঠিক মাঝখানে, পুরো লালও না, সাধারণ বাদামিও না। আলোতে চুল নড়লে লাল আভাটা ফুটে ওঠে, যেটা চুলে একটা স্বাভাবিক জীবন্ত ভাব দেয়। চুলে একটু উষ্ণ গ্লো চান কিন্তু পুরো রেড শেডে যেতে চান না, তাহলে এটাই আপনার শেড।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: ওয়ার্ম আর নিউট্রাল আন্ডারটোন। মাঝারি ফর্সা, শ্যামলা আর গভীর শ্যামলা ত্বকে এই শেড বিশেষভাবে সুন্দর দেখায়, কারণ লাল আভাটা ত্বকের উষ্ণতার সাথে মিলে যায়।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: স্ট্রেট, ওয়েভি, লেয়ার্ড। তিন ধরনেই বসে। লেয়ার্ড কাটে চুল নড়লে লাল-বাদামি টোনের ডাইমেনশনটা সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়।
আমাদের অভিমত: পুরো বাদামি শেড চাইলে এটা আপনাকে হতাশ করবে। কয়েকটা ধোয়ার পর আর সূর্যের আলো লাগলে এটা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লালচে হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের রোদের কথা মাথায় রাখুন।
৪. কালো

কালো শেডের জনপ্রিয়তা বছরের পর বছর কমেনি, কারণটা সহজ: এর এফেক্ট তাৎক্ষণিক। চুল হঠাৎ গাঢ়, ঘন আর মসৃণ হয়ে ওঠে। L’Oreal Paris Excellence এর কালো শেডে একটা গভীর, প্রায় নীলচে আভা আছে, যেটা চুলে সিল্কি ফিনিশ আনে। পাকা চুল ঢাকতে চান, বা চুলে দৃঢ় আর পরিচ্ছন্ন একটা লুক চান, কালো এদের জন্য নিরাপদ পছন্দ।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: কুল আর নিউট্রাল আন্ডারটোনে সবচেয়ে স্বাভাবিক দেখায়। গভীর শ্যামলা ত্বকে এর কনট্রাস্ট সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: স্ট্রেট চুল, ব্লান্ট কাট বা সিল্ক-প্রেস স্টাইল। একটা তীক্ষ্ণ, পরিশীলিত লুক চলে আসে।
আমাদের অভিমত: কালো শেডের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা একটাই: এটা ত্বকের কোমল ফিচারগুলোকে কড়া দেখাতে পারে, বিশেষ করে উজ্জ্বল ফর্সা ত্বকে। আর একবার চুল পুরোপুরি কালো করলে অন্য শেডে যাওয়া অনেক কঠিন, চুল গ্রো-আউট না হওয়া পর্যন্ত আটকে থাকতে হবে।

৫. অবার্ন

অবার্ন একটা উষ্ণ লালচে বাদামি রং, যেটা চুলে একধরনের জীবন্ত গ্লো নিয়ে আসে। পুরো লালও না, পুরো বাদামিও না; মাঝখানের সেই মিষ্টি জায়গা, যেখানে চুল রোদে নড়লে সোনালি-লালচে আভা ফুটে ওঠে। চান চুলটা দেখতে স্বাভাবিক লাগুক, কিন্তু হালকা চমকেও দিক। অবার্ন তখনই কাজে আসে।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: ওয়ার্ম আর নিউট্রাল আন্ডারটোন। মাঝারি ফর্সা থেকে শ্যামলা ত্বকে চমৎকার বসে, কারণ এর উষ্ণতা ত্বকের প্রাকৃতিক টোনের সাথে মিলে যায়।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: লেয়ার্ড কাট আর ওয়েভি টেক্সচার। লেয়ারের ভাঁজে ভাঁজে অবার্নের লাল-বাদামি টোন আলো ধরে রাখে।
আমাদের অভিমত: যাঁদের চুল বেশ গাঢ় কালো, তাঁদের চুলে অবার্নের লাল আভাটা প্রত্যাশার মতো ফুটবে না। ফলাফল ব্রাউনের কাছাকাছি দেখাবে, পুরো অবার্ন না। বোল্ড লাল চাইলে চুল আগে কিছুটা হালকা করে নিতে হতে পারে।

৬. বার্গেন্ডি

বার্গেন্ডি মানে গাঢ় ওয়াইন রঙের একটা শেড, লাল আর বাদামির মাঝে, কিন্তু লালের দিকে বেশি ঝুঁকে। এই শেডের বিশেষত্ব হলো চুলে একটা সমৃদ্ধি চলে আসে, যেটা সাধারণ ব্রাউন বা কালো দিতে পারে না। আলোতে চুল নড়লে রক্তিম একটা প্রভা চলে, যেটা অনেকের চোখে এক্সোটিক লাগে।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: মাঝারি থেকে গভীর শ্যামলা ত্বকে সবচেয়ে চমৎকার। ওয়ার্ম আর নিউট্রাল আন্ডারটোনে এর গভীরতাটা স্পষ্ট হয়।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: কার্ল, লং ওয়েভ, লেয়ার্ড কাট। ভলিউম আর মুভমেন্ট আছে এমন চুলে বার্গেন্ডির লাল টোনটা চলাচল করে, দেখতে দারুণ লাগে।
আমাদের অভিমত: বার্গেন্ডির সমস্যাটা ফেইডের সময়। কয়েক সপ্তাহ পর শেডটা সমৃদ্ধি হারিয়ে মলিন বাদামি-লালে নেমে আসতে পারে। প্রথম দিনের গভীরতা যতটা সুন্দর, ছয় সপ্তাহ পরের চেহারাটা ততটা না। কালার-প্রটেক্ট শ্যাম্পু ব্যবহার করলে এই ফেইড অনেকটা ধরে রাখা যায়।

৭. গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড

গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড মানে নরম ব্লন্ড কালার, যেখানে সোনালি আর বেইজ টোনের মিশ্রণে চুলে রোদ-ছোঁয়া একটা ভাব আসে। প্ল্যাটিনাম বা আইসি ব্লন্ডের মতো চমকদার না, বরং উষ্ণ আর স্বাভাবিক। প্রথমবার ব্লন্ডে যাচ্ছেন, চুলে নাটকীয়তার বদলে দীপ্তি চান, এই শেডটা তখন সবচেয়ে নিরাপদ ব্লন্ড পছন্দ।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: ওয়ার্ম আর নিউট্রাল আন্ডারটোন। উজ্জ্বল ফর্সা থেকে মাঝারি ফর্সা ত্বকে এর সোনালি আভাটা ত্বকের স্বাভাবিক উষ্ণতার সাথে মিশে যায়।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: ওয়েভি আর সফট লেয়ার্ড স্টাইল। বেইজ আর গোল্ডের ভারসাম্য চুলের মুভমেন্টে ডাইমেনশন যোগ করে।
আমাদের অভিমত: গাঢ় বেস কালারের চুলে গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড পেতে হলে অনেক ক্ষেত্রে আগে চুল হালকা করতে হয়। বাংলাদেশী মেয়েদের চুল যেহেতু সাধারণত গাঢ়, একবারের অ্যাপ্লিকেশনে আশানুরূপ ফল না-ও আসতে পারে। হয় ফলাফলটা খুব সাটল হয়, নয়তো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উষ্ণ লাগে।
৮. টরটিলা

টরটিলা, যাকে অনেকে মিল্ক টি ব্রাউন বলেও চেনেন, একটা ট্রেন্ডি লাইট অ্যাশ ব্রাউন। K-pop আর কোরিয়ান ফ্যাশনের প্রভাবে গত কয়েক বছরে এই শেড বাংলাদেশী তরুণীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। দেখতে স্নিগ্ধ, মিউটেড, একটু ধোঁয়াটে আর আধুনিক। কিন্তু ছবিতে যতটা সুন্দর লাগে, বাস্তবে পেতে গেলে কাজটা একটু কঠিন।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: কুল আর নিউট্রাল আন্ডারটোন। হালকা থেকে মাঝারি ফর্সা ত্বকে এর অ্যাশ টোনটা সবচেয়ে পরিষ্কার দেখায়।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: কার্টেন ব্যাং, লুজ ওয়েভ, এয়ারি লেয়ার্ড কাট। কোরিয়ান-অনুপ্রাণিত হেয়ারস্টাইলের সাথে আদর্শ জোড়া।
আমাদের অভিমত: এই শেড পেতে হলে চুলের বেসটা হালকা হওয়া দরকার। গাঢ় কালো বা গাঢ় বাদামি চুলে টরটিলা সরাসরি লাগালে ফলটা ঘোলাটে আর কাদামাটি রঙের হয়, প্যাকেটের ছবির মতো না। বাস্তবসম্মত ফল চাইলে আগে চুল ব্লিচ বা প্রি-লাইটেন করতে হবে, যেটা চুলের জন্য বাড়তি চাপ।
৯. চেরি রেড

চেরি রেড একটা উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ফ্যাশন শেড, যাকে চোখ এড়ানো যায় না। এটা চুপচাপ থাকার শেড না। চান চুল কথা বলুক, ফ্যাশন রিস্ক নিতে রাজি, স্টাইলটাও ইতিমধ্যে এজি বা স্ট্যাটমেন্ট-ভিত্তিক, তাহলে চেরি রেড আপনার শেড।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: কুল আন্ডারটোন আর ফর্সা থেকে মাঝারি ফর্সা ত্বকে চেরি রেডের তীব্রতা সবচেয়ে ভালো বসে। ওয়ার্ম আন্ডারটোনে এটা একটু কমলার দিকে ঝুঁকতে পারে।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: এজি বা অ্যাসিমেট্রিক কাট, কার্ল, ভারী টেক্সচার্ড চুল। ফ্যাশন কালার বহন করতে পারে এমন স্টাইল দরকার।
আমাদের অভিমত: এই শেডের সবচেয়ে বড় সমস্যা মেইনটেন্যান্স। চেরি রেড দ্রুত ফেইড করে, কয়েকটা ধোয়ার পর গোলাপি বা মলিন লালে নেমে আসতে পারে। আর গাঢ় বেস চুলে চেরি রেড প্যাকেটের যত উজ্জ্বল দেখায়, বাস্তবে তত উজ্জ্বল আসে না। কালার ধরে রাখতে নিয়মিত টাচ-আপ আর কালার-সেইফ শ্যাম্পু লাগবেই।

১০. কুল ব্লন্ড

কুল ব্লন্ড এই তালিকার সবচেয়ে কঠিন আর সবচেয়ে কম মানুষের জন্য মানানসই কালার শেড। নামটা শুনতে নরম লাগলেও বাস্তবে এটা একটা শীতল, অ্যাশি, প্রায় ধোঁয়াটে ব্লন্ড। যাঁদের চুল আগে থেকেই হালকা, অথবা যাঁদের কুল আন্ডারটোনের ফর্সা ত্বক ওয়াশড-আউট দেখাবে না, তাঁদের জন্য এটা ভালো বিকল্প।
কোন ত্বকের রঙে সবচেয়ে ভালো মানাবে: উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক আর স্পষ্ট কুল আন্ডারটোন। ওয়ার্ম আন্ডারটোনের ত্বকে এটা ত্বককে নিষ্প্রভ দেখাতে পারে।
কোন চুলের ধরন আর স্টাইলে সবচেয়ে ভালো: আগে থেকে হালকা চুল, যেকোনো স্টাইলে। সিল্কি স্ট্রেট চুলে এর অ্যাশি ভাবটা সবচেয়ে পরিষ্কার বোঝা যায়।
আমাদের অভিমত: গাঢ় বেস চুলে কুল ব্লন্ড সরাসরি লাগালে ফল প্রায় সবসময় ব্রাসি, পিতলরঙা বা অসমান হয়। চুল আগে যথেষ্ট পরিমাণে লিফট না করলে এই শেড তার আসল অ্যাশি চরিত্রটা দেখাবে না। বাংলাদেশী চুলে কুল ব্লন্ড পেতে হলে সাধারণত পেশাদার সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ত্বকের রঙ আর আন্ডারটোন অনুযায়ী চুলের কালার বেছে নেওয়ার নিয়ম
এতক্ষণে একটা কথা হয়তো লক্ষ্য করেছেন: আমরা শুধু ফর্সা বা শ্যামলা বলিনি, প্রতিবারই বলেছি ওয়ার্ম, কুল বা নিউট্রাল আন্ডারটোন। এটাই আসলে সবচেয়ে বড় রহস্য, যেটা বাংলা ব্লগগুলোতে কেউ পরিষ্কার করে বলে না।
দুই বোন একই ছাদের নিচে বড় হয়েছেন, ত্বকের রঙও প্রায় একই, অথচ একই হেয়ার কালার একজনের চুলে স্বপ্নের মতো ফুটেছে, আরেকজনের চুলে চেহারাটা মলিন দেখাচ্ছে। এই পার্থক্যটার নাম আন্ডারটোন। ত্বকের ওপরের রঙ আর ত্বকের নিচে যে সূক্ষ্ম আভা চলে, সেটা আলাদা জিনিস। হেয়ার কালার মানিয়ে যাবে কি না, সেটা নির্ভর করে এই আন্ডারটোনের ওপর, ত্বকের ওপরের রঙের ওপর না।
আপনার আন্ডারটোন চিনবেন কীভাবে
খুব সহজ তিনটা টেস্ট আছে, যেগুলো ঘরে বসেই করতে পারবেন। কোনো বিউটি স্যালুনে যাওয়ার দরকার নেই।
- শিরা টেস্ট। কব্জির ভেতরের দিকে তাকান, দিনের আলোতে। শিরাগুলো যদি সবুজ দেখায়, আপনি ওয়ার্ম আন্ডারটোন। নীল বা বেগুনি দেখালে কুল। দুটোর মাঝামাঝি, বা ঠিক ধরতে পারছেন না, নিউট্রাল।
- গয়না টেস্ট। সোনা আর রূপা, এই দুটো গয়না পরে আয়নায় দেখুন। সোনায় চেহারাটা উজ্জ্বল লাগলে আপনি ওয়ার্ম। রূপায় বেশি ভালো লাগলে কুল। দুটোতেই সমান ভালো লাগলে নিউট্রাল।
- রোদ টেস্ট। রোদে কয়েক মিনিট থাকার পর ত্বকটা কেমন আচরণ করে? লাল হয়ে যায়, পুড়ে যায়, কুল আন্ডারটোন। সরাসরি বাদামি বা গাঢ় হয়, ওয়ার্ম। দুটোই একটু একটু, নিউট্রাল।
তিনটার মধ্যে অন্তত দুটো একই উত্তর দিলে সেটাই আপনার আন্ডারটোন।
কুল আন্ডারটোনের জন্য সবচেয়ে ভালো শেড
এই আন্ডারটোনের ত্বকে সবচেয়ে ভালো মানায় এমন শেডগুলোও কুল-টোনড, যেগুলোয় নীলচে, ছাইরঙা বা ধোঁয়াটে আভা আছে। আমাদের তালিকা থেকে এই তিনটা আপনার জন্য:
- কালো: কুল আন্ডারটোনে এর গভীরতা সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।
- টরটিলা (মিল্ক টি ব্রাউন): অ্যাশ টোনটা কুল ত্বকে মলিনতা না এনে বরং আধুনিক একটা ভাব দেয়।
- চেরি রেড: কুল আন্ডারটোনের গায়ে এর তীব্রতা মানিয়ে যায়, কমলার দিকে ঝুঁকে যায় না।
কুল ব্লন্ডও ভালো অপশন, যদি ত্বক উজ্জ্বল ফর্সা হয়। মাঝারি ফর্সায় এটা একটু বেমানান লাগতে পারে।
ওয়ার্ম আন্ডারটোনের জন্য সবচেয়ে ভালো শেড
ওয়ার্ম আন্ডারটোনের ত্বকে সোনালি, লালচে বা তামাটে আভা থাকে। এই ত্বকে ওয়ার্ম-টোনড শেডগুলো মিশে যায়, পাল্টা দেখায় না। আপনার জন্য তিনটা সবচেয়ে ভালো অপশন:
- মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন: সম্ভবত ওয়ার্ম আন্ডারটোনের জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ।
- অবার্ন: লাল-সোনালি আভা ত্বকের উষ্ণতার সাথে সুন্দরভাবে কথা বলে।
- গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড: যদি বড় পরিবর্তন চান, সোনালি টোনটা ওয়ার্ম ত্বকে দীপ্তি যোগ করে।
বার্গেন্ডিও ওয়ার্ম ত্বকে দারুণ বসে, বিশেষ করে যদি ত্বক একটু শ্যামলার দিকে হয়।
নিউট্রাল আন্ডারটোনের জন্য সবচেয়ে ভালো শেড
এই আন্ডারটোনকে আমরা প্রায়ই বলি ভাগ্যবানদের ক্যাটাগরি। এই ত্বকে প্রায় যেকোনো শেডই মানিয়ে যায়। তাহলে নিউট্রালদের জন্য তালিকাটা চারটায় গিয়ে দাঁড়ায়:
- ব্রুনেট: যেকোনো নিউট্রাল ত্বকে নিরাপদ আর সুন্দর।
- মিডিয়াম ব্রাউন: দৈনন্দিন পরিশীলিত লুকের জন্য আদর্শ।
- মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন: হালকা উষ্ণতা চাইলে।
- বার্গেন্ডি: সাহসী কিছু চাইলে, কিন্তু চেরি রেডের মতো অতিরিক্ত না।
নিউট্রাল আন্ডারটোনে চেরি রেড বা কুল ব্লন্ডও কাজ করে, যদি বাকি স্টাইলটা সাহসী হয়।
আন্ডারটোন চিনতে না পারলে কী করবেন
তিনটা টেস্ট করেও যদি ধরতে না পারেন, সেটাও স্বাভাবিক। অনেক মানুষেরই আন্ডারটোন স্পষ্টভাবে কুল বা ওয়ার্ম কোনোটাই না, এটা নিউট্রাল হিসেবেই থাকে। এই অবস্থায় নিরাপদ ডিফল্ট হলো ব্রুনেট, মিডিয়াম ব্রাউন বা মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন। এই তিনটার যেকোনোটা পরে আপনি যদি ফলটা পছন্দ করেন, পরের বার আরেকটু সাহসী শেডে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস পাবেন।
আরেকটা কথা মনে রাখবেন: চুলের শেড স্থায়ী না, কিন্তু চুল স্থায়ী। একটা শেড পছন্দ না হলে অপেক্ষা করুন, ফেইড হবে, রি-কালার করতে পারবেন। কিন্তু চুল যদি অতিরিক্ত প্রসেসিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটা ফিরে পেতে অনেক সময় লাগে। ছোট থেকে বড় পরিবর্তনে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
চুলে কালার করার আগে যা জানা জরুরি
কালার কেনার আগে চারটা জিনিস ঠিক করে নিন। এগুলো জানা না থাকলে চুলের ক্ষতি হতে পারে।
- প্যাচ টেস্ট আগে করুন: কালার লাগানোর ৪৮ ঘণ্টা আগে কনুইয়ের ভেতরের দিকে অথবা কানের পেছনে অল্প পরিমাণে কালার লাগিয়ে দেখুন। লালভাব, চুলকানি বা জ্বালা হলে এই কালার আপনার জন্য না। অ্যামোনিয়া-ফ্রি প্রোডাক্টেও অ্যালার্জি হতে পারে, তাই এই ধাপ এড়াবেন না।
- ডেভেলপারের ভলিউম বুঝে নিন: ১০ ভলিউম ডেভেলপার চুলে সামান্য কালার ডিপোজিট করে, লিফট করে না। ২০ ভলিউম ১-২ শেড লিফট করতে পারে, এটাই বেশিরভাগ অ্যাট-হোম কালারে দেওয়া থাকে। ৩০ ভলিউম গাঢ় চুল হালকা করার জন্য, কিন্তু চুলের ক্ষতিও বেশি। ৪০ ভলিউম পেশাদার ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
- পার্মানেন্ট আর সেমি-পার্মানেন্টের পার্থক্য: পার্মানেন্ট কালার চুলের কিউটিকল খুলে রঙ ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়, ৬-৮ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। সেমি-পার্মানেন্ট শুধু চুলের ওপরের স্তরে বসে, ৬-১২ বার ধোয়ার পর ফেইড করে। প্রথমবার কালার করছেন বা শেড পছন্দ হবে কি না নিশ্চিত না, সেমি-পার্মানেন্ট দিয়ে শুরু করুন।
- অ্যামোনিয়া-ফ্রি মানে ক্ষতিকর-মুক্ত না: অনেক ব্র্যান্ড অ্যামোনিয়ার বদলে এথানোলামিন ব্যবহার করে, যেটা চুলের কিউটিকল একইভাবে খোলে, শুধু গন্ধটা কম। অ্যামোনিয়া-ফ্রি প্রোডাক্ট চুলের জন্য তুলনামূলক কোমল, কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাপদ ভেবে অসতর্ক হবেন না।
বাংলাদেশের আবহাওয়া আর পানির কারণে যা মাথায় রাখতে হবে
বাংলাদেশের আবহাওয়া আর কলের পানি, দুটোই হেয়ার কালারের জন্য চ্যালেঞ্জ। এই অংশটা পশ্চিমা ব্লগে কখনো পাবেন না, কারণ সেখানকার পরিবেশ আমাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
- ঢাকার আর্দ্রতা ৭০-৮৫% গ্রীষ্মে: এই আর্দ্রতায় চুলের কিউটিকল ফুলে ওঠে, কালার মলিকিউলগুলো আস্তে আস্তে বেরিয়ে যায়। হালকা শেড (চেরি রেড, কুল ব্লন্ড, টরটিলা) দ্রুত ফেইড করে। ব্রুনেট, ব্রাউন আর কালো শেডগুলো অনেক বেশি সময় ধরে রাখে।
- কলের পানি প্রায় সব শহরেই হার্ড: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা; সব জায়গায় পানিতে ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি। এই খনিজগুলো চুলে জমে কালার ফেইড দ্রুত করে, বিশেষ করে লাল আর ব্লন্ড শেডে। শাওয়ার ফিল্টার লাগালে কালার অনেকদিন টিকে থাকে।
- বাংলাদেশের রোদ চুলের কালারের শত্রু: UV রশ্মি কালার মলিকিউল ভেঙে দেয়। চেরি রেড, বার্গেন্ডি আর সব ব্লন্ড শেড রোদে দ্রুত ফেইড করে। বাইরে বের হলে স্কার্ফ, ছাতা বা UV-প্রটেক্টিং হেয়ার সিরাম ব্যবহার করুন।
- লোডশেডিং আর কালার স্টোরেজ: অব্যবহৃত কালারের প্যাক ঠাণ্ডা, শুকনো, অন্ধকার জায়গায় রাখুন। তাপ আর আলোতে কেমিক্যাল ভেঙে যায়, ফলাফল প্রত্যাশার মতো হয় না। ফ্রিজে রাখার দরকার নেই, কিন্তু গরম জানালার পাশে কখনোই না।
- বর্ষায় কালার করার আদর্শ সময়: বর্ষায় আর্দ্রতা বেশি, কিন্তু রোদ কম। কালার সেট হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভারী রোদ এড়াতে পারলে ফলাফল অনেক বেশি স্থায়ী হয়। তাই বর্ষার শুরু বা শেষ, এই সময়টা কালার করার ভালো জানালা।
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে সবচেয়ে ভালো টিকে থাকা শেড: আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, ব্রুনেট আর মিডিয়াম ব্রাউন আর কালো এই তিনটা সবচেয়ে কম মেইনটেন্যান্সে সবচেয়ে বেশি দিন টেকে। সবচেয়ে দ্রুত ফেইড করে চেরি রেড, কুল ব্লন্ড আর গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড।
পাকা চুল ঢাকতে কোন কালার সবচেয়ে কার্যকর
পাকা চুল ঢাকার ক্ষেত্রে সব শেড সমান কাজ করে না। কিছু শেড পুরো কভারেজ দেয়, কিছু আংশিক, কিছু আবার পাকা চুলকে হাইলাইটের মতো দেখায়।
- পূর্ণ কভারেজ দেয় এই শেডগুলো: কালো, ব্রুনেট, মিডিয়াম ব্রাউন, বার্গেন্ডি, মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন। এগুলোর পিগমেন্ট ঘন, পাকা চুলের ভেতরে পুরোপুরি ঢুকে যায়। ১০০% গ্রে কভারেজ দরকার হলে এই পাঁচটার মধ্যে বেছে নিন।
- আংশিক কভারেজ দেয়: অবার্ন আর গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড। পাকা চুলগুলো ঢাকা পড়ে, কিন্তু কাছ থেকে দেখলে সামান্য বোঝা যায়। যাঁরা ন্যাচারাল লুক চান, তাঁদের জন্য এটাই বরং ভালো।
- পাকা চুল ঢাকতে এই তিনটা ব্যবহার করবেন না: চেরি রেড, কুল ব্লন্ড, টরটিলা। এগুলোর পিগমেন্ট তুলনামূলক হালকা, পাকা চুলে বসলে রঙটা ভিন্নভাবে ধরে, ফলে পাকা চুলগুলো হাইলাইটের মতো দেখায়। যদি ফ্যাশন-ফরোয়ার্ড লুক চান এবং পাকা চুলকে ডিজাইনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে রাজি, তাহলে অবশ্য আলাদা কথা।
- ৩০ শতাংশের বেশি পাকা চুল হলে: শুধু বাজারের কিট ব্যবহার করে ১০০% কভারেজ পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। দুটো ধাপের প্রক্রিয়া দরকার হতে পারে: প্রথমে একটা ফিলার শেড, তারপর আপনার পছন্দের শেড। এই অবস্থায় পেশাদার সাহায্য নেওয়াই ভালো।
- ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটা কথা: ইসলামিক বিধান অনুযায়ী পাকা চুল ঢাকতে কালো শেড পরিহার করার একটা সাধারণ মত আছে। এই কারণে অনেক বাংলাদেশী মুসলিম নারী পাকা চুলের জন্য বার্গেন্ডি, ব্রুনেট বা মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন বেছে নেন। বিস্তারিত জানতে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় উৎসের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কালার করার পর চুলের যত্ন কীভাবে নেবেন
কালার করার পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টাই কালার চুলে স্থায়ী হয়। তারপর শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি যত্ন।
- ৭২ ঘণ্টা চুল ভেজাবেন না: এই সময়ে কিউটিকল পুরোপুরি বন্ধ হয়। আগে শ্যাম্পু করলে কালার মলিকিউলের একটা অংশ ধুয়ে চলে যায়। প্রথম ধোয়া হোক ৩ দিন পর, ঠাণ্ডা বা হালকা গরম পানি দিয়ে।
- সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু আবশ্যক: সালফেট (সাধারণত SLS বা SLES হিসেবে লেবেলে থাকে) চুলের ন্যাচারাল অয়েল আর কালার পিগমেন্ট দুটোই ধুয়ে দেয়। কালার করা চুলে সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করলে কালার ২-৩ সপ্তাহ বেশি টিকে। [কালার-সেইফ শ্যাম্পু আর কন্ডিশনারের সংগ্রহ দেখুন — AMSBD aftercare category link placeholder]
- সপ্তাহে একবার হেয়ার মাস্ক: কালার চুলের প্রোটিন আর ময়েশ্চার দুটোই কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে একদিন গভীর কন্ডিশনিং মাস্ক ব্যবহার করুন, ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। কেরাটিন, আরগান অয়েল বা শিয়া বাটার আছে এমন মাস্ক বেছে নিন। [হেয়ার মাস্ক সংগ্রহ দেখুন — AMSBD hair mask category link placeholder]
- লিভ-ইন সিরাম ঢাকার আর্দ্রতার বিরুদ্ধে: আর্দ্র আবহাওয়ায় কিউটিকল ফুলে কালার বেরিয়ে যায়। হালকা লিভ-ইন সিরাম কিউটিকল শক্ত করে রাখে, ফ্রিজ কমায়, কালার ফেইড ধীর করে। ভেজা চুলে ২-৩ ফোঁটা যথেষ্ট।
- রোদে চুলের সানস্ক্রিন: চুলের জন্য আলাদা UV-প্রটেক্টিং স্প্রে পাওয়া যায়। বাইরে বের হওয়ার আগে চুলে স্প্রে করুন, বিশেষ করে গ্রীষ্মে। বিকল্প হিসেবে স্কার্ফ বা ছাতাও ভালো কাজ করে।
- হিট স্টাইলিং কমান: স্ট্রেটনার, কার্লার, হেয়ার ড্রায়ারের তাপ কালার মলিকিউল ভাঙে। যদি স্টাইলিং না করে থাকার উপায় না থাকে, আগে হিট-প্রটেক্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করুন, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮০°C রাখুন।
প্রতি ৬-৮ সপ্তাহে টাচ-আপ: পার্মানেন্ট কালার করা চুলে গোড়ার দিকে নতুন চুল গজায়, যেটাকে রুট রিগ্রোথ বলে। ৬-৮ সপ্তাহ পরপর শুধু গোড়ার অংশে টাচ-আপ করুন, পুরো চুলে আবার কালার লাগাবেন না। বারবার ফুল-হেড কালার চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
Authentic Makeup Store BD থেকে আসল হেয়ার কালার কিনুন
আমরা ২০১৯ থেকে বাংলাদেশী মেয়েদের জন্য আসল, রেপ্লিকা-মুক্ত স্কিনকেয়ার আর হেয়ার প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছি। আমাদের ট্যাগলাইন Say no to replica, কারণ বাজারে ভেজাল হেয়ার কালারের ছড়াছড়ি, যেগুলো চুলের চেয়ে মাথার স্ক্যাল্পের বেশি ক্ষতি করে।
- প্রতিটা প্রোডাক্ট সরাসরি আমদানি করা। USA, UK, South Korea আর Japan থেকে আসে, মাঝখানে কোনো মিডলম্যান নেই।
- হলোগ্রাম আর ব্যাচ কোড ভেরিফিকেশন। কেনার আগে প্রতিটা প্রোডাক্টের অথেনটিসিটি চেক করতে পারবেন।
- পুরো বাংলাদেশে ক্যাশ-অন-ডেলিভারি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর; সব জায়গায়।
- রিটার্ন আর এক্সচেঞ্জ পলিসি। প্রোডাক্ট পছন্দ না হলে নির্দিষ্ট শর্তে ফেরত দিতে পারবেন।
মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ চুলের কালার কোনটি?
ব্রুনেট আর মিডিয়াম ব্রাউন বেশিরভাগ মেয়ের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ। এই দুটো শেড প্রায় সব ত্বকের রঙে মানিয়ে যায়, মেইনটেন্যান্স কম লাগে, আর প্রথমবার কালার করছেন এমন কারও জন্য আদর্শ। অ্যামোনিয়া-ফ্রি ফর্মুলেশন বেছে নিলে চুলের ক্ষতিও তুলনামূলক কম হবে।
প্রথমবার চুলে কালার করতে চাইলে কোন শেড বেছে নেওয়া উচিত?
প্রথমবার চুলে কালার করলে নিজের প্রাকৃতিক চুলের রঙের কাছাকাছি একটা শেড বেছে নিন। গাঢ় কালো চুল হলে ব্রুনেট বা মিডিয়াম ব্রাউন, একটু হালকা চুল হলে অবার্ন বা মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন। সাহসী শেডে যাওয়ার আগে এই ছোট পরিবর্তনে নিজেকে পরীক্ষা করে নিন।
পাকা চুল ঢাকতে কোন কালার সবচেয়ে ভালো কাজ করে?
১০০% গ্রে কভারেজের জন্য কালো, ব্রুনেট, মিডিয়াম ব্রাউন, বার্গেন্ডি আর মিডিয়াম রেডিশ ব্রাউন সবচেয়ে কার্যকর। এই পাঁচটা শেডের পিগমেন্ট ঘন, পাকা চুলের ভেতরে সম্পূর্ণ ঢুকে যায়। অবার্ন আর গোল্ডেন বেইজ ব্লন্ড আংশিক কভারেজ দেয়, যেটা ন্যাচারাল লুক চাইলে বরং ভালো।
চুলের কালার সাধারণত কতদিন থাকে?
পার্মানেন্ট কালার ৬-৮ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে, তবে গোড়ার নতুন চুল ৪ সপ্তাহ পর থেকেই বোঝা যেতে শুরু করে। সেমি-পার্মানেন্ট কালার ৬-১২ বার শ্যাম্পু করার পর ফেইড করে, মানে ৩-৬ সপ্তাহ। বাংলাদেশের আর্দ্রতা আর কলের পানির কারণে এই সময়সীমা একটু কমে আসে।
অ্যামোনিয়া-ফ্রি চুলের কালার কি সত্যিই কম ক্ষতিকর?
অ্যামোনিয়া-ফ্রি কালার চুলের জন্য তুলনামূলক কোমল, কিন্তু সম্পূর্ণ ক্ষতিমুক্ত না। বেশিরভাগ অ্যামোনিয়া-ফ্রি প্রোডাক্টে এথানোলামিন থাকে, যেটা কিউটিকল একইভাবে খোলে, শুধু গন্ধটা কম তীব্র। চুলের ক্ষতি অনেকটাই ডেভেলপারের ভলিউম, অ্যাপ্লিকেশন সময় আর পরবর্তী যত্নের ওপর নির্ভর করে।
ঘরে নিজে নিজে চুলে কালার করা কি নিরাপদ?
সিম্পল শেড পরিবর্তন (যেমন কালো থেকে ব্রুনেট, বা ব্রুনেট থেকে মিডিয়াম ব্রাউন) ঘরে করা নিরাপদ, যদি প্যাচ টেস্ট করেন আর নির্দেশনা ঠিকঠাক মানেন। কিন্তু বড় পরিবর্তন (যেমন গাঢ় থেকে ব্লন্ড, বা ব্লিচ লাগে এমন শেড) ঘরে করতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই ক্ষেত্রে পেশাদার সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
চুলে কালার করা কি ইসলামিকভাবে অনুমোদিত?
সাধারণ ইসলামিক মত অনুযায়ী চুলে কালার করা অনুমোদিত, তবে পাকা চুল ঢাকতে পুরোপুরি কালো শেড পরিহার করার পরামর্শ আছে। এই বিধানের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে, তাই বিস্তারিত জানতে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় উৎসের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
